ভারতের যুবকদের গেমিং আসক্তি সংকট: একটি গভীর বিশ্লেষণ

সম্পাদনা করেছেন: Olha 12 Yo

ভারতে অনলাইন গেমিংয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আসক্তি এক গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে বেশ কিছু মর্মান্তিক ঘটনা এই সমস্যাকে সামনে এনেছে, যেখানে অনলাইন গেমিং আসক্তিকে একাধিক আত্মহত্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি লখনউতে এক ১৮ বছর বয়সী তরুণ তার শিক্ষাজীবন ও অনলাইন গেমিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় নিজের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে একটি সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন ভারত সরকার ই-স্পোর্টসকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অর্থ-ভিত্তিক গেম নিষিদ্ধ করার জন্য একটি বিল পাশ করেছে। এর আগে মহারাষ্ট্রে এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনাও অনলাইন গেমিং আসক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে। তার কাছ থেকে পাওয়া একটি নোট থেকে তার ভার্চুয়াল জগতের প্রতি গভীর আসক্তির ইঙ্গিত মেলে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে গেমিং আসক্তি আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটায়, যার ফলে হঠকারিতা এবং বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়। যখন গেমিং একটি পালানোর পথ হয়ে দাঁড়ায়, তখন এর অ্যাক্সেস সীমিত হলে তা চরম প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। ভারতে ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার (IGD) একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা, বিশেষ করে ১৩-২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৩.৬% মানুষ এতে আক্রান্ত। অতিরিক্ত গেমিং বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং পড়াশোনার অবনতির সাথে যুক্ত। স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যেখানে অনেক তরুণ ভার্চুয়াল জগতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করে, যা প্রায়শই গুরুতর বাস্তব-বিশ্বের পরিণতির দিকে পরিচালিত করে।

এই আসক্তি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে পিতামাতার পর্যবেক্ষণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত গেমিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা। বিকল্প ক্রিয়াকলাপ যেমন খেলাধুলা, শিল্পকলা বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে প্রায় ৪৪.১ কোটি গেমার রয়েছে, যার মধ্যে ১৩.৮ কোটি পেইড গেম খেলে। এই বিশাল সংখ্যক গেমারদের মধ্যে আসক্তির হার বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ।

সরকার সম্প্রতি অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫ পাশ করেছে, যা ই-স্পোর্টসকে একটি বৈধ প্রতিযোগিতামূলক খেলা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে উৎসাহিত করবে, কিন্তু অর্থ-ভিত্তিক এবং জুয়া-ভিত্তিক গেমগুলিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করবে। এই বিলের লক্ষ্য হল জুয়ার মতো ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি হ্রাস করা এবং একটি সুস্থ গেমিং ইকোসিস্টেমকে সমর্থন করা। এই নতুন আইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম, বিজ্ঞাপনদাতা এবং নির্মাতাদের তাদের গেমের মেকানিক্স, প্রচার এবং অর্থপ্রদানের প্রবাহ পর্যালোচনা করতে বাধ্য করবে। এই পদক্ষেপগুলি গেমিং আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।

28 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • News18

  • India Today

  • Business Today

  • Newsmeter

  • Al Jazeera

  • Hindustan Times

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।