মালয়েশিয়ার ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত পাম তেল (CPO) ফিউচার্সের বাজার ২০২৩ সাল শেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে নিম্নমুখী চাপের সম্মুখীন হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো স্বল্পমেয়াদী চাহিদার সূচকগুলির দুর্বলতা এবং বাজার অংশগ্রহণকারীদের নিয়মিত মুনাফা তোলার প্রবণতা। ২০২৩ সালের শেষ কার্যদিবস, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে বেঞ্চমার্ক মার্চ ২০২৬ CPO চুক্তিটি প্রতি টন RM3,998 এ বন্ধ হয়েছিল। এটি আরও পতনের ইঙ্গিত দেয়, কারণ জানুয়ারী ২, ২০২৬ তারিখে প্রথম কার্যদিবসে মালয়েশিয়ার পাম তেলের ফিউচার্স প্রায় ১% হ্রাস পেয়ে MYR 4,000 প্রতি টন স্তরের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছিল, যেখানে একটি প্রতিবেদনে MYR 4,002/T এ ১.১৯% পতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই তাৎক্ষণিক মন্দার মনোভাব মূল্যের প্রত্যাবর্তনের অন্তর্নিহিত প্রত্যাশার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ, যা মৌসুমী ভোগের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সালের শেষের দিকের এই দুর্বলতা মূলত ডিসেম্বরে ভারতের শক্তিশালী আমদানির কারণে সৃষ্ট একটি উত্থানের পরে এসেছিল। মাসের প্রথম ২৫ দিনে ভারত পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় তাদের ক্রয় ৬৬% বৃদ্ধি করেছিল। তবে, পরবর্তী পতন রপ্তানি কার্যকলাপের সুস্পষ্ট মন্থরতার কারণে ঘটেছে; AmSpec তথ্যের ভিত্তিতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার রপ্তানি ৫% কমে মোট ১.২ মিলিয়ন টন হয়েছে, যেখানে কার্গো সার্ভেয়াররা ১ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নভেম্বরের তুলনায় ৫.২% থেকে ৫.৮% হ্রাস লক্ষ্য করেছেন।
রপ্তানি সংকোচন এবং একই সাথে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের শক্তিশালী হওয়া—যা সাড়ে চার বছরের উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল—আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য মালয়েশিয়ার পাম তেলকে তুলনামূলকভাবে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে, যা তাৎক্ষণিক চাহিদার পূর্বাভাসকে ম্লান করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি বাজারে কিছুটা হতাশার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক কারণগুলিও CPO মূল্যায়নের উপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। অপরিশোধিত তেলের দাম হ্রাস, যা বায়োডিজেলের জন্য একটি মূল উপাদান, জ্বালানি খাতে পাম তেলের মূল্য প্রস্তাবকে দুর্বল করেছে। জানুয়ারী ২, ২০২৬ তারিখে, WTI অপরিশোধিত তেল ২০২০ সালের পর থেকে তার সবচেয়ে তীব্র বার্ষিক পতনের পরে প্রায় $57.42 প্রতি ব্যারেল এ স্থির হয়েছিল, অন্যদিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল প্রায় $61 প্রতি ব্যারেল এ লেনদেন হচ্ছিল, যা প্রায়শই উদ্ভিজ্জ তেলের বিস্তৃত অনুভূতিতে নরমতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও স্বল্পমেয়াদে চাপ বিদ্যমান, তবুও শীতকালীন মাসগুলিতে চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশা রয়েছে। তবে, রিঙ্গিতের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা নিকট ভবিষ্যতে CPO মূল্যের উপর একটি ভারসাম্যহীন প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের নজর এখন জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রপ্তানির নতুন তথ্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়ার দিকে নিবদ্ধ থাকবে, যা বাজারের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হবে।


