Hong Kong lodges 'strong protest' after Panama takes control of canal ports bbc.in/4aT8eU5
twiter
শেয়ার করুন
লেখক: sfsdf dsf
Hong Kong lodges 'strong protest' after Panama takes control of canal ports bbc.in/4aT8eU5
twiter
হংকং সরকার পানামা খালের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে পানামা সরকারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক এবং কঠোর অভিযোগ দায়ের করেছে। হংকং কর্তৃপক্ষ সরাসরি অভিযোগ করেছে যে পানামার প্রশাসন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই বন্দরগুলোর দখল নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী।
এই বন্দরগুলো গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে হংকং-ভিত্তিক স্বনামধন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সিকে হাচিসন (CK Hutchison) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছিল। দীর্ঘ সময়ের এই ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব হঠাৎ করে ছিন্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গত মাসে পানামার সুপ্রিম কোর্ট একটি যুগান্তকারী রায়ে সিকে হাচিসনকে কন্টেইনার বন্দর পরিচালনার অনুমতি প্রদানকারী বিদ্যমান চুক্তিগুলো বাতিল করে দেয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে এই চুক্তিগুলো দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বা "অসাংবিধানিক", যা এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মূল কারণ।
আদালতের এই বিতর্কিত রায়টি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছিলেন যে চীন পরোক্ষভাবে এই খালটি পরিচালনা করছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বা প্রকাশ্য প্রমাণ জনসমক্ষে আনা হয়নি।
হংকং সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা পানামার এই "নির্লজ্জ পদক্ষেপের" বিরুদ্ধে একটি "তীব্র প্রতিবাদ" জানাচ্ছে। তাদের মতে, পানামা সরকারের এই আচরণ চুক্তির মূল চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং একই সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালার চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
গত বছর হংকং-ভিত্তিক এই কোম্পানিটি তাদের দুটি বন্দরের অধিকাংশ মালিকানা মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক (BlackRock)-এর নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রি করার জন্য একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছিল। রয়টার্স সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানামা সরকারের বর্তমান পদক্ষেপটি ২২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা প্রায় ২০.৭৫ বিলিয়ন পাউন্ডের সমান) মূল্যের এই বিশাল বাণিজ্যিক লেনদেনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে।
হংকংয়ের প্রখ্যাত ধনকুবের লি কা-শিং কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সিকে হাচিসন পানামা সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ "বেআইনি" বলে অভিহিত করেছে। তারা মনে করছে যে এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের আইনি অধিকার এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে দাবি করে আসছেন যে মধ্য আমেরিকার এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি মূলত চীনা নিয়ন্ত্রণের অধীনে চলে গেছে। তার এই রাজনৈতিক অবস্থান পানামা খালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে।
গত জানুয়ারিতে নিজের উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, "চীন পানামা খাল পরিচালনা করছে এবং আমরা এটি চীনকে দেইনি। আমরা এটি পানামাকে দিয়েছিলাম এবং আমরা এটি এখন ফিরিয়ে নিচ্ছি।" তার এই বক্তব্যটি খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এর পরবর্তী মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পানামা সরকারের কাছে এই জলপথের ব্যবস্থাপনায় "অবিলম্বে পরিবর্তনের" দাবি জানান। তিনি খালের ওপর চীনের তথাকথিত "প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ" নিয়ে তার গভীর উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
যদিও খালের ওপর চীনের সরাসরি কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রকাশ্য প্রমাণ নেই, তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে চীনা কোম্পানিগুলোর সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী বাণিজ্যিক উপস্থিতি রয়েছে। এই বিশাল অর্থনৈতিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করেই মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ আবর্তিত হচ্ছে।
প্রতি বছর প্রায় ১৪,০০০ জাহাজ এই ৫১ মাইল (৮২ কিমি) দীর্ঘ পানামা খাল ব্যবহার করে আটলান্টিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে যাতায়াত করে। এটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত যা জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা থেকে মুক্তি দেয়।
এই জলপথটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের মোট ভলিউমের প্রায় ৫ শতাংশ পরিচালনা করে। বর্তমানে এটি পানামা সরকারের একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা 'পানামা ক্যানাল অথরিটি' দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা খালের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই খালের মাধ্যমে পরিবাহিত মোট পণ্য ভলিউমের ২১.৪ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল চীন। এই তথ্যটি চীনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পরেই পানামা খালের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবহারকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।