ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ কমান্ডারদের হাতে নিজ সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অভিযোগ: বিবিসির চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

লেখক: sfsdf dsf

ইউক্রেন সীমান্তে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আবহে এক শিউরে ওঠার মতো চিত্র ফুটে উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুশ সেনারা দাবি করেছেন যে, তাদেরই সহযোদ্ধাদের অত্যন্ত কাছ থেকে বা 'পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ' থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই চরম ও অমানবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মূলত সেইসব সেনাদের বিরুদ্ধে, যারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কমান্ডারদের পক্ষ থেকে নেওয়া এমন নির্মম সিদ্ধান্ত রুশ বাহিনীর অভ্যন্তরে বিরাজমান চরম বিশৃঙ্খলা ও গভীর নৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিবিসির বিশেষ তথ্যচিত্র 'দ্য জিরো লাইন: ইনসাইড রাশিয়াস ওয়ার'-এ এই নৃশংসতার বিশদ বিবরণ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সেখানে বর্ণিত হয়েছে তথাকথিত 'মিট গ্রাইন্ডার' বা 'মাংস পেষণকারী' রণকৌশলের কথা, যা আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম, আধুনিক প্রযুক্তি বা কার্যকর অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াই রুশ সেনাদের ঢেউয়ের মতো ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যুহ লক্ষ্য করে অবিরাম পাঠানো হয়। এর মূল সামরিক উদ্দেশ্য হলো নিজেদের সাধারণ সেনাদের জীবনের বিনিময়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত, গোলাবারুদশূন্য এবং শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি নিঃশেষ করে দেওয়া। এই কৌশলটি কেবল অমানবিকই নয়, বরং এটি সেনাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হতাশা সৃষ্টি করছে।

এই ভয়াবহ ও ট্র্যাজিক অভিজ্ঞতার প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়া নামক এক রুশ সেনা। তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে বর্ণনা করেছেন কীভাবে তার চোখের সামনে চারজন সহযোদ্ধাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, কারণ তারা সম্মুখ সমরের নিশ্চিত মৃত্যুপুরী থেকে প্রাণ বাঁচাতে পিছু হটার চেষ্টা করেছিলেন। ইলিয়া আরও জানান, তার ইউনিটে মোট ৭৯ জন সংগৃহীত বা মোবিলাইজড সেনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই বিশাল দলের মধ্যে একমাত্র তিনিই অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন। এই পরিসংখ্যানটি যুদ্ধের ময়দানে সাধারণ রুশ সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির এক ভয়াবহ এবং নির্মম বাস্তবতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।

বর্তমানে এই সেনারা এবং তাদের পরিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে এই নৃশংসতার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য জোরালো ও আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে শোকাতুর পরিবারগুলোর হৃদয়বিদারক আহাজারি এবং সেনাদের এই দাবিগুলো এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে নিজ দেশের সেনাদের সাথে এই ধরনের পাশবিক আচরণ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সাথে, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী কমান্ডারদের চিহ্নিত করে তাদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।

এই ঘটনাগুলো কেবল যুদ্ধের ভয়াবহতাকেই প্রকাশ করে না, বরং রুশ সামরিক বাহিনীর চেইন অফ কমান্ডের মধ্যে থাকা গভীর নৈতিক অবক্ষয় এবং নেতৃত্বের ব্যর্থতাকেও জনসমক্ষে নিয়ে আসে। যেখানে সেনাদের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে কেবল কৌশলগত বা রাজনৈতিক জয়ের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সুর ক্রমশ জোরালো হওয়া স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং যুদ্ধ পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে সেনাদের সুরক্ষা, অধিকার এবং মানবিক মর্যাদা বজায় রাখা যেকোনো সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীর জন্য অপরিহার্য কর্তব্য, যা এখানে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের অসারতা এবং মানবিক বিপর্যয়ের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।

11 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।