ইইউ-মারকোসুর চুক্তি ঝুঁকিতে: ফ্রান্স ও ইতালির কৃষি দাবি এবং ব্রিটিশ সরকারের অলিরগার্খ তহবিলের ডেডলাইন

সম্পাদনা করেছেন: Olha 12 Yo

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মারকোসুর জোটের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বিশাল বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন এখন গুরুতর হুমকির মুখে। মূলত ফ্রান্স এবং ইতালি থেকে আসা আনুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশের অনুরোধের কারণেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের নির্ধারিত তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর, যা ফোস দো ইগুয়াসুতে হওয়ার কথা ছিল। এই দুটি দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ কৃষি খাতকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়ার নিশ্চয়তার অভাবকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফ্রান্স বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে যে কীটনাশক ব্যবহার এবং পশুকল্যাণ সংক্রান্ত মানদণ্ডের উপর কঠোর 'মিরর ক্লজ' বা প্রতিচ্ছবি বিধান চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে, ইতালি তাদের কৃষকদের জন্য একটি বিশেষ সুরক্ষা প্যাকেজ দাবি করছে।

ইউরোপীয় কমিশন অবশ্য আগেই কৃষি সুরক্ষার কিছু ব্যবস্থা অনুমোদন করেছিল, যা ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে নির্ধারিত ছিল। এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, মারকোসুর দেশগুলি থেকে আমদানি যদি বছরে ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়, অথবা তিন বছরের মধ্যে দাম একই অনুপাতে কমে যায়, তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা স্থগিত করা যেত। জার্মানি, স্পেন এবং উত্তর ইউরোপের দেশগুলি এই চুক্তির সমর্থক। তারা মনে করে, ৭২২ মিলিয়ন মানুষকে কভার করা এবং বিশ্বের জিডিপি-র এক চতুর্থাংশ প্রতিনিধিত্বকারী এই চুক্তিটি চীন থেকে বাণিজ্যকে সরিয়ে আনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইইউ যদি চুক্তিটি দ্রুত অনুমোদনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে, তবে তার দেশ এর তীব্র বিরোধিতা করবে। একইভাবে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন যে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চূড়ান্ত না হলে স্বাক্ষর করা 'অসময়ে' হবে। এই কূটনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সতর্ক করেছেন যে যদি স্বাক্ষর স্থগিত হয়, তবে তার মেয়াদে ব্রাজিল এই চুক্তি উদযাপন করবে না এবং ভবিষ্যতের আলোচনায় তারা 'কঠিন' অবস্থান নেবে।

এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই, যুক্তরাজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা রুশ অলিগার্ক রোমান আব্রামোভিচের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সাথে সম্পর্কিত তার হিমায়িত সম্পদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গত ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হাউস অফ কমন্সে একটি ৯০ দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেছেন যে আব্রামোভিচকে ২০২২ সালে চেলসি ফুটবল ক্লাব বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড একটি বিশেষ মানবিক তহবিলে ইউক্রেনের জন্য স্থানান্তর করতে হবে।

এই অর্থ ২০২২ সালের মে মাস থেকে ব্রিটিশ ব্যাংকে জমা রয়েছে, যখন আব্রামোভিচের সাথে ভ্লাদিমির পুতিনের কথিত সম্পর্কের কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। মূল বিতর্কটি অর্থের বণ্টন নিয়ে। ব্রিটিশ সরকার জোর দিচ্ছে যে মূলধন পুরোটাই ইউক্রেনের মানবিক প্রয়োজনে ব্যয় করা উচিত। কিন্তু আব্রামোভিচের দাবি, এই অর্থ 'ইউক্রেনের যুদ্ধের সকল ক্ষতিগ্রস্তদের' সমর্থন করা উচিত, যার মধ্যে রুশ প্রাপকরাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

চ্যান্সেলর অফ দ্য এক্সচেকার র‍্যাচেল স্টিভেন্স এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে নির্ধারিত সময়সীমা অমান্য হলে সরকার বলবৎ করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ২০২২ সালের মে মাসে আমেরিকান ব্যবসায়ী টড বোহলির নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ক্লাব বিক্রি সম্পন্ন হয়, যা ২০০৩ সালে শুরু হওয়া আব্রামোভিচের যুগের সমাপ্তি ঘটায়। একই সময়ে, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ জার্মান বুন্ডেসটাগকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় আর্থিক কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত 'ক্ষতিপূরণ ঋণ' তৈরির পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন, যা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো হিমায়িত সম্পদ ব্যবহার করে তৈরি হবে। এই প্রস্তাবটি ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালের ইইউ সম্মেলনে ভোটের জন্য উত্থাপন করা হবে।

মার্জ ইইউ কর্তৃক এই ঋণ অনুমোদনের সম্ভাবনাকে '৫০-৫০' বলে মূল্যায়ন করেছেন। ঋণের উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়ন করা এবং এই অর্থ কেবল রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পরেই ফেরত দেওয়া হবে। চাপ বাড়ানোর এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কিছু সদস্য রাষ্ট্র, যেমন বেলজিয়াম, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, ইতালি এবং মাল্টা, আইনি জটিলতা বা রাশিয়ার সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ভয়ে প্রতিরোধ করছে। জার্মানির ইউরোপ বিষয়ক মন্ত্রী গুন্টার ক্রিখবাউম সতর্ক করেছেন যে এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা হলে, যারা বিরোধিতা করছে সেই ইইউ দেশগুলির ক্রেডিট রেটিং-এর উপর 'নেতিবাচক প্রভাব' পড়তে পারে।

21 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • Deutsche Welle

  • Deutsche Welle

  • ISTOÉ DINHEIRO

  • G1

  • Reuters

  • Brazil Reports

  • VEJA

  • The Guardian

  • HM Treasury

  • Al Jazeera

  • ITV News

  • EUToday

  • Wikipedia

  • EU summit to discuss leveraging frozen Russian assets as collateral for Ukraine

  • What is the row about the EU using frozen Russian assets to support Ukraine?

  • Kancelari gjerman: Asetet e ngrira ruse duhet t'i sjellin dobi Ukrainës, jo SHBA-së

  • ​Merz zotohet të mbështesë Ukrainën për aq kohë sa të jetë e mundur - Bota Sot

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।