প্রযুক্তির অত্যধিক ব্যবহার ও শিশুদের নোমোফোবিয়া: উদ্বেগ ও করণীয়

সম্পাদনা করেছেন: Olha 12 Yo

প্রযুক্তির ব্যাপক ও প্রাথমিক ব্যবহার শিশুদের আবেগিক অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে গভীর পরিবর্তন আনছে, যার ফলস্বরূপ ডিভাইস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উদ্বেগ বা নোমোফোবিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের পথে এক নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, যা অভিভাবকদের মনোযোগ দাবি করে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নোমোফোবিয়ার প্রকাশ কেবল মানসিক উদ্বেগ নয়, বরং এটি প্রকৃত শারীরিক, জ্ঞানীয় এবং আবেগিক কষ্টের ইঙ্গিত দেয়।

এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বাস্তব জগতের মিথস্ক্রিয়া এবং কঠিন আবেগ প্রক্রিয়াকরণের স্থান দখল করে নিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুরা বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৩.২৮ ঘণ্টা ডিভাইসে ব্যয় করছে, যা বিশেষত দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত কঠোর সীমা অতিক্রম করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. গোপেন কুমার কুন্ডু উল্লেখ করেছেন যে, অতিমাত্রায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ফলে শিশুর সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়া, আচরণগত অসুবিধা এবং স্বাভাবিক স্নায়বিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে ডিজিটাল পুরস্কারগুলি মস্তিষ্কের ডোপামিন রিইনফোর্সমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে তোলে, যা ডিভাইসগুলিকে একঘেয়েমি এবং হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশ্রয়স্থল করে তোলে। স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটারের ঘনত্ব হ্রাস পেতে পারে, যা ভাষা এবং জ্ঞানীয় দক্ষতার জন্য অপরিহার্য, যেমনটি গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট জার্নালের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এই অতিরিক্ত ব্যবহার সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং কার্যকারী স্মৃতির মতো নির্বাহী কার্যকারিতাকেও ব্যাহত করে।

প্রযুক্তির এই আসক্তি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি-মুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা, বিষয়বস্তু সহ-দর্শন করা, এবং পিতামাতাদের নিয়ন্ত্রিত ডিভাইস ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। WHO-এর ২০২০ সালের নির্দেশিকা অনুসারে, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো স্ক্রিন টাইম সুপারিশ করা হয় না, এবং দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য তা এক ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয়।

শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য প্রথম পাঁচ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এই সময়ে মস্তিষ্কের গঠন পরিবেশ এবং অন্যান্য শিশুদের সাথে ভাবের আদান-প্রদানের ওপর নির্ভরশীল। এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা মোকাবিলা করার মূল তত্ত্ব হলো, সচেতন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং আবেগিক বুদ্ধিমত্তা বিকাশের জন্য অনিয়ন্ত্রিত খেলার প্রচার করা। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রযুক্তি যেন একটি সহায়ক উপকরণ হিসেবে থাকে, সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতার বিকল্প না হয়ে ওঠে। অভিভাবকদের উচিত শিশুর ব্রাউজার হিস্টোরি পর্যবেক্ষণ করা এবং সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ইন্টারনেটের বিপদ সম্পর্কে আলোচনা করা।

27 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Agenda Digitale

  • Health Professionals For Safer Screens

  • 2025 The Common Sense Census: Media Use by Kids Zero to Eight - beSpacific

  • 03-02 2025 The Common Sense Census: Media Use By Kids Zero to Eight - Lynn's Warriors

  • Daniela Lucangeli agli Stati Generali della Scuola Digitale 2025

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।