ব্রাজিলের বেলমে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (UNFCCC) ৩০তম পার্টিদের সম্মেলন বা সিওপি৩০-এর প্রাথমিক অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের সন্ধিক্ষণে প্রায় ৬০ জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এতে অংশ নিচ্ছেন, যা জলবায়ু কূটনীতিতে উচ্চ স্তরের সম্পৃক্ততা নির্দেশ করে। সম্মেলনটি ১০ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আমাজন নদী-সংলগ্ন বেলমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা প্রকৃতির সুরক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে আয়োজক ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অতীতের চুক্তিগুলোর, বিশেষত প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরের এক দশক পূর্ণ হলেও অনেক পক্ষই তা মানতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক অধিবেশনটি রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার মাধ্যমে শুরু হয় এবং এটি শুক্রবার পর্যন্ত চলবে, যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ থিমেটিক ওয়ার্কিং গ্রুপে আলোচনা হবে: জলবায়ু ও প্রকৃতি, শক্তি রূপান্তর, এবং প্যারিস চুক্তির পর্যালোচনা।
এই সম্মেলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্যারিস চুক্তি, যা দশ বছর আগে ১৯৫টি দেশ দ্বারা গৃহীত হয়েছিল। দেশগুলোকে তাদের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ জাতিসংঘের এনডিসি সিন্থেসিস রিপোর্ট অনুসারে মাত্র ৬৪টি দেশ তাদের এনডিসি জমা দিয়েছে, যা সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জুলাই মাসে রায় দিয়েছে যে প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলো তাদের এনডিসি সরবরাহ করতে আইনত বাধ্য।
জলবায়ু অর্থায়ন একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। ধনী দেশগুলোর পক্ষ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা এখনও পূরণ হয়নি; ২০২২ সালে ওইসিডির প্রতিবেদন অনুসারে প্রায় ১১৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার একত্রিত হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, কিছু আলোচক ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি নতুন লক্ষ্যের পক্ষে চাপ সৃষ্টি করছেন। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে আমাজন বন সুরক্ষার জন্য ১২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ‘ট্রপিক্যাল ফরেস্টস ফরএভার ফান্ড’ প্রস্তাব করা হয়েছে, যার চার-পঞ্চমাংশ বেসরকারি অর্থায়ন থেকে আসার কথা।
ইউএন আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা সতর্ক করেছে যে ২০২৫ সাল রেকর্ড করা উষ্ণতম বছরগুলোর মধ্যে একটি হতে চলেছে, যা সম্মেলনের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে বাড়িয়ে তুলেছে। সিওপি৩০-এর এজেন্ডায় শক্তি রূপান্তর, অভিযোজন এবং বাস্তবায়নের উপায়গুলির উপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলের প্রস্তাবিত শক্তি রূপান্তর, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর, এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার সংক্রান্ত ছয়টি থিমেটিক অক্ষ।


