মার্কিন নৌ-অভিযান ও ভেনিজুয়েলার সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৃতীয় আঘাতের ধারাবাহিকতা

সম্পাদনা করেছেন: Olha 12 Yo

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভেনিজুয়েলার সাথে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কথিত মাদক পাচারকারী জাহাজে তৃতীয় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই বৃহত্তর সংঘাতের সম্ভাবনাকে উসকে দিচ্ছে। এই সামরিক পদক্ষেপগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে যখন উভয় পক্ষই শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই সামরিক পদক্ষেপগুলিকে 'নারকোটেররিস্ট'দের বিরুদ্ধে চলমান বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যাদের সাথে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায়, ভেনিজুয়েলাও পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশটি সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে ২৫,০০০ সৈন্য মোতায়েন করেছে, যা ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নৌ-উপস্থিতির সরাসরি প্রতিক্রিয়া। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই প্রদর্শনে আটটি যুদ্ধজাহাজ, তিনটি উভচর আক্রমণকারী জাহাজ, একটি ক্রুজার, একটি উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ এবং অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, পি-৮ পসেইডন নজরদারি বিমান ও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে, সর্বশেষ আঘাতটি ঘটেছিল গত ২১ অক্টোবর, ২০২৫-এ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, যা পূর্ববর্তী দুটি আঘাতের (সেপ্টেম্বর ২ এবং সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫) ধারাবাহিকতা বহন করে। পূর্ববর্তী অভিযানগুলিতে ১১ জন এবং ৩ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছিল। তবে, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫-এ ঘটে যাওয়া একটি অপারেশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো একটি কথিত মাদক-সাবমেরিনে আঘাত হেনে জীবিত উদ্ধার করে, যদিও পরে দুজন নিহত হন। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাতের প্রকৃতি কেবল পৃষ্ঠীয় নয়, বরং গভীরতর কৌশলগত পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই পরিস্থিতির গুরুত্ব অপরিসীম। জাতিসংঘ এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সহকারী মহাসচিব মীরোস্লাভ ইয়েনকা নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন সরকার মাদুরো এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের মাথার ওপর যথাক্রমে ৫০ মিলিয়ন এবং ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। কিছু বিশেষজ্ঞ এই অভিযানগুলিকে 'বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা সামরিক শক্তির ব্যবহারের সীমা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি উভয় পক্ষের জন্যই এক কঠিন পরীক্ষার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

16 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Reuters

  • ABC News

  • American Military News

  • The Washington Post

  • United Nations Department of Political and Peacebuilding Affairs

  • San Antonio News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।