মেন্টক ট্র্যাজেডির বিরল গ্রন্থাবলী ইন্দোনেশিয়ার আঞ্চলিক গ্রন্থাগারে দান
সম্পাদনা করেছেন: sfsdf dsf
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেন্টক ট্র্যাজেডির ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার বাংকা বারাত রিজেন্সির আঞ্চলিক গ্রন্থাগারে পাঁচটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বই দান করেছেন। এই দানকার্যটি সম্পন্ন হয় যখন তাঁরা এই মর্মান্তিক ঘটনার ৮৪তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য ইন্দোনেশিয়া সফর করছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি তারিখে বাংকা বারাতের গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ সংস্থার প্রধান ফারাউক ইয়োহানসায়াহ এই অনুদান গ্রহণ করেন।
সংগৃহীত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'হোয়াইট কুলিজ' এবং 'সিস্টার ভিভ'। এই পাঠ্যগুলি সিঙ্গাপুর থেকে এসএস ভাইনার ব্রুক জাহাজডুবির পর মিত্রবাহিনীর সৈন্য ও নার্সদের উপর নেমে আসা চরম দুর্ভোগের প্রথম সারির বিবরণ প্রদান করে। 'হোয়াইট কুলিজ' বইটি লিখেছেন নার্স বেটি জেফ্রি, যিনি বন্দীদশার সময় গোপনে ডায়েরি রাখতেন এবং বইটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়, যা অস্ট্রেলিয়ায় সত্তর হাজারেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল। এই সফরের মাধ্যমে মেন্টক বিচ হত্যাকাণ্ডের ৮৪ বছর পূর্ণ হলো, যেখানে জাপানি বাহিনী সিঙ্গাপুর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর রাডজি সৈকতে ৫০ জন ব্রিটিশ সৈন্য এবং ২২ জন অস্ট্রেলিয়ান নার্সকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।
এই ভয়াবহ গণহত্যা থেকে একমাত্র নার্স ভিভিয়ান বুলউইনকেল প্রাণে বেঁচে যান। ভিভিয়ান বুলউইনকেল, যিনি পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন, তিনি ১৯১৫ সালের ১৮ই ডিসেম্বর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কাপুন্ডায় জন্মগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধের পর তিনি নার্সিং পেশাকে সম্মান জানাতে এবং নিহতদের স্মরণে তহবিল সংগ্রহে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। ইয়োহানসায়াহ এই দানকে 'সম্মান' হিসেবে উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন যে এই বইগুলি ট্র্যাজেডির ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য অমূল্য উৎস হিসেবে কাজ করবে, যেখানে নার্সদের সুমাত্রায় বছরের পর বছর বন্দী শিবিরে রাখা হয়েছিল। নার্স বেটি জেফ্রি তার বন্দীদশার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বইটির জন্য ১৯৮৭ সালে প্রাক্তন সেনা সদস্য ও মহিলাদের সেবার জন্য অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া সম্মানে ভূষিত হন।
এসএস ভাইনার ব্রুক জাহাজটি ১৯৪২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুর থেকে শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি জাপানি বিমান হামলায় ডুবে যায়; মোট ৬৫ জন অস্ট্রেলিয়ান নার্সের মধ্যে মাত্র ২৪ জন, যার মধ্যে বুলউইনকেল ও জেফ্রি অন্তর্ভুক্ত, অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসতে সক্ষম হন। বুলউইনকেলের বেঁচে থাকার গল্পটি আরও মর্মান্তিক, কারণ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেও তিনি মৃত সেজে বেঁচে যান এবং ১২ দিন আহত ব্রিটিশ সৈনিক সেসিল জর্জ কিনসলেকে জঙ্গলে সেবা দেন। এই নার্সদের উপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতা, যা ব্যাংকা দ্বীপের গণহত্যা নামে পরিচিত, সেখানে ২২ জন অস্ট্রেলিয়ান নার্স এবং আহত মিত্রবাহিনীর সৈন্যদের হত্যা করা হয়েছিল। 'সিস্টার ভিভ' নামে গ্রান্টলি কিজা কর্তৃক লিখিত একটি সাম্প্রতিক জীবনীমূলক গ্রন্থে বুলউইনকেলের এই বীরত্বপূর্ণ জীবন তুলে ধরা হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক দলিলগুলি শুধুমাত্র ঘটনার বিবরণ নয়, বরং যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও মানবিক সহনশীলতা এবং বন্ধুত্বের প্রতীক। লাইব্রেরি প্রধানের মতে, এই নথিগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তির বার্তা বহন করবে, যা ইন্দোনেশীয় ও অস্ট্রেলীয় ঐতিহ্যের মধ্যে একটি স্থায়ী সংযোগ স্থাপন করবে। এই অনুদান আঞ্চলিক ইতিহাস সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা স্মরণ করিয়ে দেয় যে কীভাবে সাধারণ মানুষও চরম প্রতিকূলতার মুখে অসাধারণ সাহস প্রদর্শন করতে পারে।
7 দৃশ্য
উৎসসমূহ
ANTARA News - The Indonesian News Agency
ANTARA News
Portal Duta Radio
BANGKAPOS.COM - YouTube
Radar Indonesia News
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



