রাশিয়ার দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত দাতুনা চার্চ, একাদশ শতাব্দীর একটি বিরল মধ্যযুগীয় খ্রিস্টান স্থাপত্য নিদর্শন, যা এই অঞ্চলের ধর্মীয় সহাবস্থানের জটিল ইতিহাসকে তুলে ধরে। পাথরের এই সাধারণ কাঠামোটি শমিলস্কি জেলায়, আভারিয়ান কোইসু নদীর তীরে অবস্থিত এবং এর নির্মাণকাল আনুমানিক ১০০৮ খ্রিস্টাব্দে বলে ধারণা করা হয়, যা দশম শতাব্দীর শেষভাগ বা একাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নির্দেশ করে।
এই চার্চটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি খ্রিস্টান রাজ্য সারিরের একমাত্র টিকে থাকা স্থাপত্য নিদর্শন। ধারণা করা হয়, রাজা সারির (আভারিয়ার নুতসাল) বায়ার তৃতীয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি নির্মিত হয়েছিল। এই অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে প্রারম্ভিক মধ্যযুগে ককেশাস অঞ্চলের একটি বৃহৎ অংশে খ্রিস্টধর্মের বিস্তার ছিল এবং জর্জিয়া ও সারির রাজ্যের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ বিদ্যমান ছিল। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিকেরা উল্লেখ করেন যে দশম থেকে একাদশ শতাব্দীতে দাগেস্তানে প্রায় ৩০০ খ্রিস্টান গির্জা ও মঠের একটি বিস্তৃত জালিকা বিদ্যমান ছিল, যদিও পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে এই অঞ্চলটি প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত হয়ে ওঠে।
দাতুনা চার্চটি জর্জিয়ান খ্রিস্টান নকশার একটি ধ্রুপদী একক-নাব বিশিষ্ট ব্যাসিলিকা শৈলীর অনুকরণে স্থানীয় পাথর দিয়ে তৈরি। এর বৈশিষ্ট্য হলো পুরু দেয়াল এবং সরু প্রবেশপথ, যা রুক্ষ পর্বত পরিবেশে এটিকে স্থায়িত্ব প্রদান করেছে। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এটি কাজরেটি এবং আচি মঠগুলির অনুরূপ, যা জর্জিয়ান অর্থোডক্স ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। এই স্থানটি বর্তমানে রাশিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রেজিস্টারে ফেডারেল গুরুত্বের একটি ল্যান্ডমার্ক হিসেবে তালিকাভুক্ত।
সারির রাজ্য, যা ষষ্ঠ বা সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, আধুনিক দাগেস্তানের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় খ্রিস্টান রাষ্ট্র ছিল। এই রাজ্যের ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দুতে অর্থোডক্স খ্রিস্টধর্ম ছিল, যা সম্ভবত জর্জিয়ার মাধ্যমেই এসেছিল এবং একাদশ শতাব্দীতে সেলজুক তুর্কিদের আক্রমণের মুখে জর্জিয়ার সংগ্রামের সমসাময়িক ছিল। যদিও অষ্টম শতাব্দীতে আরব বিজয়ের পর ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নবম শতাব্দীর মধ্যে ডারবেন্তের মতো নগর কেন্দ্রগুলিতে ইসলাম গৃহীত হয়, তবুও এই অঞ্চলের উচ্চভূমিতে খ্রিস্টধর্মের প্রভাব বজায় ছিল। দাতুনা চার্চ সেই সময়ের বহু-ধর্মীয় অতীতের একমাত্র অবশিষ্ট স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বর্তমানে, দাতুনা চার্চটি সাংস্কৃতিক পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণ, যারা দাগেস্তানের বর্তমান ইসলামিক পরিচয়ের বাইরে এর বৈচিত্র্যময় অতীত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। দুর্গম অবস্থানের কারণে এই স্থানে পৌঁছানোর যাত্রা এক ধরনের নীরব আবিষ্কারের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এই অবিচল ধর্মীয় মিথস্ক্রিয়ার প্রতীকটির প্রতি দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধাশীল আচরণ বজায় রাখার জন্য উৎসাহিত করা হয়।



