হরমুজ প্রণালী অবরোধ: ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্য সংকট
সম্পাদনা করেছেন: max one
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর হরমুজ প্রণালীর কার্যকর অবরোধ ঘটেছে, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুতর ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। এই জলপথটি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) এই পরিস্থিতিকে ইতিহাসের বৃহত্তম বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই অবরোধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আটকে গেছে।
সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে; ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ মার্চ, ২০২৬-এ প্রতি ব্যারেল ১২৬ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিঘ্ন কেবল জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল, বাণিজ্য বিন্যাস এবং শিল্প উৎপাদনেও হুমকি সৃষ্টি করছে, বিশেষত কৃষি, নির্মাণ এবং ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী খাতগুলিতে।
১৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান, সৌদি আরবের ইয়ানবু শোধনাগার এবং কুয়েতের দুটি শোধনাগার ইউনিট লক্ষ্যবস্তু হয়। ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রেও আঘাত হেনেছিল। এই ধরনের পাল্টা আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফিকারি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে পুনরায় আঘাত করা হলে সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার বিস্তার ঘটেছে আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে। ইরান ৪, ৯ এবং ১৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে তিনবার তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই লঙ্ঘনগুলিকে 'অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে ইরানকে 'ভুল এবং উস্কানিমূলক পদক্ষেপ' বন্ধ করার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। উপরন্তু, ইরান ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ১৮/১৯ মার্চ বেইত আওয়ায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্ধারিত চীন সফর স্থগিত করেন, যা মধ্য মার্চ ২০২৬ থেকে পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়; পরবর্তীতে ২৬ মার্চ, ২০২৬ তারিখে এই সফর ১৪ ও ১৫ মে পুনঃনির্ধারিত হয়। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) ইরানের হামলা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কাঠামো পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দেশটি প্রায় ২০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের ৯৩ শতাংশ প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) সতর্ক করেছে যে সংঘাত যদি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে থাকে, তবে আরও ৪৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষের মোট সংখ্যাকে ৩৬৩ মিলিয়নে উন্নীত করবে। এই সংকটটি ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছে, যেখানে সরবরাহ স্বল্পতা, মুদ্রার অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
11 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Al Jazeera Online
Reuters
Reuters
Clarin
Deutsche Welle
Deutsche Welle
Deutsche Welle
Bloomberg Business
Deutsche Welle
Deutsche Welle
Deutsche Welle
Vertex AI Search
Vertex AI Search
kcentv.com
UNITED24 Media
Businessday NG
Wikipedia
The Guardian
Chatham House
Institute for the Study of War (ISW)
Investing.com
Institute for the Study of War (ISW)
The Jerusalem Post
The Hindu
AL-Monitor
Hindustan Times
Línea Directa
Infobae
Noticias Prensa Latina
Clarin.com
Hürriyet
DefenceTurk
Vikipedi
Medyascope
Gazete Oksijen
CommonWealth Magazine
CBS News
Global News
Brookings Institution
Council on Foreign Relations
Turkish Minute
TravelMole
The Guardian
Al Jazeera
Oxford Economics
Investing.com
Bloomberg Law
Reuters
The Guardian
OMFIF
Vertex AI Search
Vertex AI Search
Vertex AI Search
Vertex AI Search
Укрінформ
Радіо Свобода
Букви
Hromadske
DSnews.ua
The Guardian
Reuters
Al Arabiya English
The Jerusalem Post
The Peninsula Qatar
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



