২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান আক্রমণের পরিকল্পনা নেই চীনের: মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন

সম্পাদনা করেছেন: user3@asd.asd user3@asd.asd

মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন, যা ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে চীনা নেতারা বর্তমানে ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন না এবং একীকরণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। এই মূল্যায়নটি পূর্বে প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুমানকে খণ্ডন করে, যেখানে তারা ২০২৭ সালকে সম্ভাব্য সময়সীমা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। বরং, বেইজিং বলপ্রয়োগের পরিবর্তে রাজনৈতিক চাপ, জবরদস্তি এবং শোষণমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে স্ব-শাসিত দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে 'স্থিতিশীল কিন্তু অসম' অগ্রগতি বজায় রেখেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চলমান উদ্বেগের কারণ। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সামরিক পদক্ষেপের হুমকি চীন পরিত্যাগ না করলেও, আপাতত তারা বলপ্রয়োগের পথ এড়িয়ে চলতে চাইছে। চীনা কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে একটি উভচর আক্রমণ 'অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যর্থতার উচ্চ ঝুঁকি বহন করে', বিশেষত যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে।

চীনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ২০৪৯ সালের মধ্যে, অর্থাৎ গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকীর মধ্যে, 'জাতীয় পুনরুজ্জীবন' অর্জন করা, যার জন্য তাইওয়ানের সাথে একীকরণ অপরিহার্য বলে তারা প্রকাশ্যে দাবি করে। এই দীর্ঘমেয়াদী সময়সীমা ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৬ সালেও বেইজিং সম্ভবত সংঘাত ছাড়াই একীকরণের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের এই বিশ্লেষণের প্রতিক্রিয়ায়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৃঢ়ভাবে জানান যে তাইওয়ান ইস্যুটি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে কোনো বাহ্যিক শক্তির হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।

তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ওয়াশিংটনে তাদের দূতাবাস থেকে বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা চীনের কার্যকলাপের উপর নজরদারি অব্যাহত রাখবে এবং 'সর্বদা সতর্ক' থাকবে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে চীন কখনোই বলপ্রয়োগের হুমকি ত্যাগ করেনি, এবং তাদের অব্যাহত সামরিক ভীতি প্রদর্শন ও 'ধূসর অঞ্চল' অপারেশন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। অন্যদিকে, পূর্ববর্তী বছরগুলিতে, যেমন ২০২২ সালে পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর, পিএলএ তাইওয়ানকে ঘিরে ব্যাপক সামরিক মহড়া চালিয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল।

এই নতুন মূল্যায়ন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি পরিমার্জিত সময়রেখা প্রদান করে, যা পূর্বের উচ্চ সতর্কতার জল্পনা থেকে সরে এসেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে যে তাইওয়ানের উপর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চীন একাধিক বিষয় বিবেচনা করবে, যার মধ্যে রয়েছে পিএলএ-এর যুদ্ধ প্রস্তুতি, তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে, তবে চীনের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন শিল্পে পুনরুদ্ধারযোগ্য পরিসরের সাইবার আক্রমণ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। সামরিক সংঘাতের অর্থনৈতিক মূল্য ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা তাইওয়ান প্রণালীর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

67 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • Taipei Times

  • CNA

  • The Straits Times

  • Ministry of Foreign Affairs of the People's Republic of China

  • Asia Times

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।