চীন-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আভাসে শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া: খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বস্তি

সম্পাদনা করেছেন: user3@asd.asd user3@asd.asd

আপনাকে দেখে খুব ভালো লাগল।

সোমবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৫ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের প্রাক্কালে একটি আসন্ন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার খবরে প্রাথমিক ইতিবাচক সাড়া দেখা গেলেও, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং অন্যান্য বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে এই উত্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এই চুক্তির মূল বিষয়বস্তু হলো চীন কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের রপ্তানি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পূর্বে হুমকি দেওয়া ১০০% শুল্ক প্রত্যাহার করা।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে আলোচনায় একটি "খুব সফল কাঠামো" প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে চীনের আরোপিত কঠোর বিরল মৃত্তিকা (rare earth element) রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ওপর স্থগিতাদেশ আসতে পারে এবং হুমকির মুখে থাকা ১০০% শুল্ক বাতিল হতে পারে। এই ইতিবাচক খবরে প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারগুলি প্রাথমিকভাবে চাঙ্গা হয়েছিল; এনভিডিয়া (Nvidia) ২.২%, ব্রডকম (Broadcom) ২.২% এবং টেসলা (Tesla) ২.৪% বৃদ্ধি পেয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন সফরের পূর্বে আশা প্রকাশ করে বলেছেন, "আমরা চুক্তির সঙ্গে ফিরে আসব।"

তবে, বাজারের এই আশাবাদকে ম্লান করেছে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। দেশটির সরকার অচলাবস্থা তার সাতাশতম দিনে পড়েছে, যা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। এর পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডার একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের প্রতিক্রিয়ায় সে দেশের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই মিশ্র পরিস্থিতিতে, বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তের দিকেও নজর রাখছেন, যা বুধবার ঘোষণা হওয়ার কথা।

বাণিজ্য চুক্তির এই ঘোষণায় বিপরীতমুখী প্রভাব পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিরল মৃত্তিকা খনি কোম্পানিগুলোর ওপর। চীনের সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায়, ইউএসএ রেয়ার আর্থ (USA Rare Earth) স্টকের মূল্য ১৩.৯% এবং এমপি ম্যাটেরিয়ালস (MP Materials) স্টকের মূল্য ৬.৫% হ্রাস পেয়েছে। চীনে বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণের ৯০% ক্ষমতা রয়েছে এবং পূর্বে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার ফলে এই দেশীয় কোম্পানিগুলোর সুবিধা হয়েছিল, যা চুক্তির ফলে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই খনিজ পদার্থগুলি বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য।

এই সমঝোতা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল করার একটি ভিত্তি তৈরি করছে। চুক্তির অংশ হিসেবে, আমেরিকান কৃষকরাও আশা করছেন যে চীন পুনরায় মার্কিন সয়াবিন আমদানি শুরু করবে, যা পূর্ববর্তী শুল্কের কারণে ব্যাহত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবেন, যেখানে এই চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

26 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • New York Post

  • CNBC

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।