২০২৫ সালের প্রথমার্ধে পেরুর কমলার রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি পেরুকে দক্ষিণ আমেরিকায় কমলার রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে এবং বিশ্ব বাজারে সপ্তম স্থানে অবস্থান করতে সাহায্য করেছে। পেরুর কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১০০,০০০ টনের বেশি কমলা রপ্তানি হয়েছে, যার মধ্যে ৬২% ছিল কমলার বিভিন্ন জাত।
এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পাশাপাশি, পেরুর কমলা খাত বেশ কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমলার স্বাদ ও গুণমানে পরিবর্তন আনছে, বিশেষ করে ফলের চিনি ও অ্যাসিডের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এছাড়াও, ব্রাজিলের মতো উৎপাদনকারী দেশগুলোতে সিট্রাস গ্রিনিং (HLB) রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলন কমে যাচ্ছে। এই রোগটি গাছের বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ফলের গুণমান নষ্ট করে দেয়। বিশ্বব্যাপী এই রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যা উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো উচ্চ লজিস্টিকস খরচের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রাখতে সমস্যায় পড়ছে। পেরুর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে 'W. Murcott' জাতের কমলার ফুল ফোটার হার কমে যাওয়ায় মৌসুমের শেষের দিকের কমলার সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে, রপ্তানি মৌসুমের জন্য একটি ইতিবাচক পূর্বাভাস রয়েছে। প্রথম দিকের জাতগুলোর ফলন বৃদ্ধি এবং শেষ দিকের জাতগুলোর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত। যদিও, মৌসুমের শেষে রপ্তানির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৮% থেকে ৯% এর মধ্যে সীমিত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পেরুর কমলা তার গুণমান এবং বিভিন্ন জাতের জন্য একটি শক্তিশালী বাজার তৈরি করেছে।
ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য, বাগানগুলিতে নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে এশিয়ার মতো কৌশলগত বাজারগুলিতে প্রবেশাধিকার জোরদার করা অপরিহার্য। এই পদক্ষেপগুলি বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী সুযোগে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করবে। পেরুর কৃষি খাতকে এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করে বিশ্ব বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে হবে।



