আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস: ঐতিহ্যবাহী পশুচিকিৎসা পদ্ধতির প্রচারে কোয়েম্বাটুরের সংস্থা
সম্পাদনা করেছেন: firstname lastname
আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে, তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর-ভিত্তিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা অরুলগাম (Arulagam) পশুচিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির ব্যবহারকে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা গবাদি পশুর সাধারণ রোগ নিরাময়ের জন্য হলুদ, গোলমরিচ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার প্রদর্শন করে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো শকুনদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ডাইক্লোফেনাক (diclofenac), অ্যাসিък্লোফেনাক (aceclofenac) এবং নিমেসুলাইড (nimesulide) এর মতো পশুচিকিৎসার ওষুধের ব্যবহার হ্রাস করা।
অরুলগামের সম্পাদক এস. ভারতীদাশন (S. Bharathidasan) জানিয়েছেন যে, এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলি গবাদি পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্ষতিকারক ওষুধগুলির ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন যে, এই ওষুধগুলি শকুনদের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত এবং এদের গ্রহণ করলে শকুনদের কিডনি বিকল হয়ে যায়, যা তাদের মৃত্যুর কারণ হয়। ভারতে শকুন জনসংখ্যার এই ব্যাপক হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো গবাদি পশুর চিকিৎসায় এই ধরণের নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) এর ব্যবহার। ২০০৭-২০০৮ সালে ভারত সরকার ডাইক্লোফেনাকের পশুচিকিৎসা ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও, কিছু অঞ্চলে এর ব্যবহার এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা শকুনদের অস্তিত্বের জন্য একটি বড় হুমকি।
এই অনুষ্ঠানে, অরুলগামের পক্ষ থেকে পশুচিকিৎসা এজেন্ট এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং ভেষজ প্রাথমিক চিকিৎসার কিট প্রদান করা হয়। অরুলগাম পূর্বেও শকুন সংরক্ষণ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করেছে, যার মধ্যে একটি ছিল ২০১৪ সালে সত্যমঙ্গলম টাইগার রিজার্ভের (Sathyamangalam Tiger Reserve) অন্তর্গত একটি সরকারি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠান। কৃষকদের কাছ থেকে গবাদি পশুর মৃত্যুর জন্য বীমা দাবির নিয়ম পরিবর্তনের অনুরোধ এসেছে। তাদের মতে, মৃত পশুর দেহ শকুনদের জন্য অপরিহার্য খাদ্য উৎস। অরুলগামের এই প্রচেষ্টাগুলি টেকসই গবাদি পশু ব্যবস্থাপনা এবং শকুনদের পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে সম্প্রদায়কে শিক্ষিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্যোগগুলি ঐতিহ্যবাহী প্রতিকার প্রচার করে এবং ক্ষতিকারক পশুচিকিৎসার ওষুধের ব্যবহার কমিয়ে তামিলনাড়ুতে শকুন প্রজাতির সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উল্লেখ্য, ভারতে শকুন জনসংখ্যার প্রায় ৯৯% এরও বেশি হ্রাস পেয়েছে, যার প্রধান কারণ হলো ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহার। এই ওষুধটি গবাদি পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হত এবং এর অবশিষ্টাংশ শকুনদের শরীরে প্রবেশ করলে তাদের কিডনি বিকল হয়ে যেত। যদিও ২০০৬ সালে ভারতে ডাইক্লোফেনাকের পশুচিকিৎসা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তবুও এর অপব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। মেলোক্সিকাম (meloxicam) এবং টলফেনামিক অ্যাসিড (tolfenamic acid) এর মতো শকুন-বান্ধব বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অরুলগামের মতো সংস্থাগুলি স্থানীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে শকুন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১৬ সালে, অরুলগামের সম্পাদক এস. ভারতীদাশনকে হাওয়াইতে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন (IUCN) কর্তৃক 'বায়োডাইভারসিটি হটস্পট হিরো অ্যাওয়ার্ড' (Biodiversity Hotspot Hero Award) প্রদান করা হয়েছিল, যা শকুন সংরক্ষণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি।
46 দৃশ্য
উৎসসমূহ
The Hindu
On International Vulture Awareness Day, Tamil Nadu NGO spreads awareness among students, pharmacists and vets
International Vulture Day awareness programme
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।


