টুইটার প্রিভিউ টেস্ট
অ্যান্টিকিথেরা মেকানিজম: চন্দ্র পঞ্জিকা অনুসরণের নতুন ইঙ্গিত নিয়ে গবেষণা
সম্পাদনা করেছেন: firstname lastname
বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত, ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (Q3) প্রধান অর্থনীতিগুলোতে ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে বেশি ছিল, যা নীতি নির্ধারকদের উপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করেছে। এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ECB)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতিকে তাদের নির্ধারিত ২% লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনা, তবে এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, শ্রমবাজারের স্থিতিস্থাপকতা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির হারকে ৪% এর উপরে ধরে রেখেছে। সেপ্টেম্বরে, ফেডারেল রিজার্ভ বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৫.২৫% থেকে ৫.৫০% এর মধ্যে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও, তারা ভবিষ্যতের কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফেড কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সুদের হার উচ্চ স্তরে বজায় থাকবে। অন্যদিকে, ইউরোজোনে, খাদ্য ও পরিষেবার মূল্যবৃদ্ধি মূল মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করেছে। ইসিবি (ECB) টানা দশমবারের মতো সুদের হার বৃদ্ধি করে এটিকে ৪.০০% এ উন্নীত করেছে, যা ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোরতা ইউরোপীয় অর্থনীতিকে মন্দার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে, বিশেষত জার্মানির মতো শিল্পোন্নত দেশগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায়।
উন্নত অর্থনীতির এই কঠোর মুদ্রানীতির বৈশ্বিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলো (Emerging Markets) মূলধন বহিঃপ্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের উচ্চ ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। যখন মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়, তখন ডলার-denominated ঋণ পরিশোধের বোঝা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) সতর্ক করেছে যে, উচ্চ সুদের হার বৈশ্বিক ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অনেক দুর্বল অর্থনীতিকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকেও তাদের নিজস্ব নীতি কঠোর করতে হচ্ছে, যদিও তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল এবং সামাজিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নীতি নির্ধারকদের সামনে এখন একটি কঠিন ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ। একদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করে; অন্যদিকে, অতিরিক্ত কঠোরতা একটি গভীর মন্দা সৃষ্টি করতে পারে এবং বেকারত্বের হার বাড়িয়ে দিতে পারে। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মূল্যস্ফীতিকে ২% লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে 'আরও কিছু সময়' লাগতে পারে এবং এই প্রক্রিয়াটি 'ব্যথাহীন হবে না'। বাজারের প্রত্যাশা ছিল যে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সুদের হার কমানো শুরু হবে, কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য সেই প্রত্যাশাকে পিছিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন তথ্যের উপর নির্ভরশীল (data-dependent) নীতি অনুসরণ করছে, যার অর্থ হলো প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নতুন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া হবে, যা বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৈশ্বিক অর্থনীতি বর্তমানে এক জটিল সন্ধিক্ষণে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির মধ্যেকার এই টানাপোড়েন নিরসনে আন্তর্জাতিক নীতি সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও প্রতিটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ম্যান্ডেট অনুসরণ করছে, তবুও বিশ্বব্যাপী আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা জরুরি। বিশেষ করে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাড়িয়ে এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আগামী মাসগুলোতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
উৎসসমূহ
Dnevno.hr
Ars Technica
Phys.org

