মার্কিন নজরদারির মধ্যেই রাশিয়ার ইউরাল ক্রুড কেনা পুনরায় শুরু করল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ

লেখক: user3@asd.asd user3@asd.asd

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আরআইএল) পুনরায় রাশিয়ান ইউরাল অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ শুরু করেছে। মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে সাময়িকভাবে এই সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ থাকার পর, এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২ জানুয়ারি, ২০২৭ তারিখের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২.২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী অন্তত তিনটি ট্যাঙ্কার ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত আরআইএল-এর জামনগর রিফাইনারি কমপ্লেক্সের দিকে রওনা হয়েছে। এই চালানগুলো ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনগুলোতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই আমদানির পুনরারম্ভ মূলত একটি দীর্ঘ বিরতির পর ঘটল, যা ২০২৭ সালের অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক রাশিয়ার প্রধান তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রোসনেফট পিজেএসসি এবং লুকঅয়েল পিজেএসসি-কে কালো তালিকাভুক্ত করার পর শুরু হয়েছিল। এই সাময়িক স্থগিতাদেশের ফলে রিলায়েন্সের রাশিয়ান তেল গ্রহণের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই সরবরাহের পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ২,৭০,০০০ ব্যারেলে নেমে এসেছিল, যা গত তিন বছরের মধ্যে ভারতে রাশিয়ান তেল আমদানির সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল। নিষেধাজ্ঞার আগে রোসনেফট ছিল আরআইএল-এর একটি প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, যাদের সাথে প্রতিদিন ৫,০০,০০০ ব্যারেল পর্যন্ত তেল সরবরাহের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ছিল।

বর্তমান চালানগুলো মূলত অলগাফ মেরিন ডিএমসিসি, রেডউড গ্লোবাল সাপ্লাই এফজেড এলএলসি, রুসএক্সপোর্ট এবং ইথোস এনার্জির মতো অ-নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটি বাণিজ্য পথে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি সস্তায় কাঁচামাল নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিলিয়নিয়ার মুকেশ আম্বানির নিয়ন্ত্রিত এই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর এই পদক্ষেপটি ভারতের জ্বালানি খরচ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘস্থায়ী অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে। ইউক্রেন সংঘাতের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ান জ্বালানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার পর থেকেই ভারত এই ধরনের সোর্সিং কৌশল অনুসরণ করে আসছে।

সাম্প্রতিক এই চালানের তেলগুলো মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার অধীনে আমদানিকৃত কাঁচামাল পুনরায় রপ্তানি করার ক্ষেত্রে যে ধরনের নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি থাকে, তা কমানোর লক্ষ্যেই সম্ভবত এই সমন্বয় করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ভারতে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হবে। মার্কিন সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার হুমকি এড়াতে এই জটিল এবং মধ্যস্থতাকারী বাণিজ্য পথগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সাহায্য করবে।

যদিও আরআইএল সহ ভারতীয় রিফাইনাররা ঐতিহাসিকভাবে সস্তা রাশিয়ান তেলের সুবিধা নিতে আগ্রহী, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই খাতে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতীয় ক্রয়ের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছিল, যা এই খাতের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের মতো অন্যান্য বড় রিফাইনাররা আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে আমেরিকা থেকে ২৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে যাতে রাশিয়ান তেলের ঘাটতি পূরণ করা যায়। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি মেনে চলার অঙ্গীকার করেছে। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে রাশিয়ান তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ভারত এখন বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ঝুঁকছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের তেল আমদানি ৮৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রিলায়েন্সের এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা, এমনকি তা সীমিত পরিসরে হলেও, প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে কাঁচামাল পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় রিফাইনিং খাতের দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে। জটিল ভূ-রাজনৈতিক বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে পথ চলা সত্ত্বেও তারা তাদের লক্ষ্য স্থির রেখেছে। আরআইএল এবং ভারত রাষ্ট্র হিসেবে কীভাবে এই বিধিনিষেধগুলো মোকাবিলা করে সস্তা জ্বালানি সম্পদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

21 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।