২০২৫ সালের প্রথম আট মাসের প্রাথমিক পরিসংখ্যান জার্মানির বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করছে। এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সামান্য ব্যবধানে অতিক্রম করে জার্মানির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। জার্মান ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতির প্রভাবের ঢেউয়ের মধ্যেই এই পরিবর্তন এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে জার্মানির রপ্তানিকে উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল করেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত, বার্লিন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল ১৬৩.৪ বিলিয়ন ইউরো, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া ১৬২.৮ বিলিয়ন ইউরোর বিনিময়কে সামান্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।
এই অগ্রগতি ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপট থেকে একটি বিপরীত চিত্র, যখন আট বছর ধরে চীনের নিরবচ্ছিন্ন আধিপত্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ক্ষণিকের জন্য শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধার করেছিল। তবে, মার্কিন শুল্কের প্রভাব জার্মানির রপ্তানির উপর স্পষ্ট এবং সুদূরপ্রসারী হয়েছে। এই আট মাসে বাণিজ্যের মোট পরিমাণ বছরে ৭.৪% হ্রাস পেয়েছে, এবং শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই ২৩.৫% এর তীব্র পতন দেখা গেছে। বিজিএ ফরেন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডার্ক জান্দুরা এই পরিস্থিতির জন্য মার্কিন বাণিজ্য নীতিকেই প্রধানত দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে জার্মান গাড়ি, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের জন্য আমেরিকান চাহিদা কমে যাওয়াই এই পতনের মূল কারণ।
তবে সামগ্রিক বাণিজ্যের সংখ্যার চেয়েও জার্মানি-চীন বাণিজ্যের অভ্যন্তরীণ কাঠামো আরও জটিল। যদিও চীনের সাথে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে, একই সময়ে চীনে জার্মানির রপ্তানি ১৩.৫% কমে ৫৪.৭ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, চীন থেকে আমদানি দ্রুত ৮.৩% বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮.৮ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। বাণিজ্যের এই ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা বিশ্লেষক এবং শিল্প নেতাদের মধ্যে বিপজ্জনক সংকেত তৈরি করছে, যারা চীনা আমদানির উপর জার্মানির ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
আইএনজি-এর গ্লোবাল হেড অফ ম্যাক্রোইকোনমিক অ্যানালিসিস, কার্স্টেন ব্রেজেস্কি, এই পরিস্থিতিকে “চীন থেকে নতুন করে আমদানি বৃদ্ধি” বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের চীনা পণ্যের এই বিপুল প্রবাহ—কেউ কেউ এটিকে ডাম্পিং মূল্য হিসেবেও দেখছেন—জার্মান শিল্পকে চাপের মুখে ফেলতে পারে। এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলিকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং একটি একক প্রভাবশালী বাণিজ্যিক অংশীদারের সাথে যুক্ত অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রতি জার্মানিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এই মুহূর্তটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে কীভাবে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নীতিগুলি অর্থনৈতিক মানচিত্র নতুন করে আঁকতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, ২০২৫ সালে জার্মানির বাণিজ্য পরিস্থিতি অস্থির এবং পরিবর্তনশীল, যা তার সীমান্তের বাইরে থাকা ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত। সামনের চ্যালেঞ্জ হলো এই জটিল গতিশীলতাগুলি মোকাবিলা করা, একই সাথে তার শিল্পের স্থিতিস্থাপকতা রক্ষা করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য নিশ্চিত করা, যাতে আমদানির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়ানো যায়।


