ইসলাম-বিরোধী পর্যটন নিষিদ্ধকরণ: অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক ইরানি রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার এবং কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

সম্পাদনা করেছেন: Olha 12 Yo

২০২৫ সালের ৬ই নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন অনুমোদন করেছে, যা সরকারকে অনুমোদিত পর্যটন গন্তব্যের তালিকা থেকে 'ইসলাম-বিরোধী' পর্যটন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা প্রদান করে। এই বিধিবদ্ধ সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন (ASIO) এমন প্রমাণ উপস্থাপন করেছে যা ইঙ্গিত দেয় যে এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০২৪ সালে সিডনি এবং মেলবোর্নের সুন্নি মুসলিমদের মধ্যে দ্বিমুখী ভ্রমণ প্রতিরোধ করা। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘোষণা করেন যে ইরানের ক্যানবেরার রাষ্ট্রদূত আহমাদ সাদেঘি এবং দূতাবাসের আরও তিনজন কূটনীতিককে 'অবাঞ্ছিত ব্যক্তি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক কোনো রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের প্রথম ঘটনা, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জানান, ASIO-এর তথ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে দুটি নির্দিষ্ট বিদ্বেষমূলক হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলির মধ্যে একটি ছিল গত বছরের ২০শে অক্টোবর সিডনির ইহুদি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ, লুইস কন্টিনেন্টাল কিচেনে অগ্নিসংযোগের প্রচেষ্টা এবং অন্যটি মেলবোর্নের আদাস ইসরায়েল সিনাগগে হামলা। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ এই কার্যকলাপকে 'বিদেশি রাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত অসাধারণ ও বিপজ্জনক আগ্রাসী কার্যকলাপ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার লক্ষ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করা। এই তথ্যের ভিত্তিতে, অস্ট্রেলিয়া সরকার IRGC-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

অন্যদিকে, ইরান অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে 'অগ্রহণযোগ্য প্রতিক্রিয়া এবং দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিপন্থী' বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে কূটনৈতিক স্তরে যেকোনো অনুপযুক্ত পদক্ষেপের 'প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া' দেখা যাবে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পরিপ্রেক্ষিতে, অস্ট্রেলিয়া তেহরানে তাদের দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং সমস্ত কূটনীতিককে একটি তৃতীয় দেশে সরিয়ে নিয়েছে।

এই নতুন আইন, যা 'কাউন্টার-টেররিজম (প্রোটেকশন অফ দ্য নেশন) বিল ২০২৫' নামে পরিচিত, অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রীকে নির্দিষ্ট দেশগুলিকে 'অপসারণ উদ্বেগ দেশ' হিসেবে মনোনীত করার ক্ষমতা দেবে, যার ফলে সেই দেশগুলির ভিসা আবেদনকারীদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে। যদিও সরকার ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জোর দিয়েছেন যে অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ রক্ষার জন্য কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা হবে। এই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

15 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • یورونیوز

  • خبرگزاری آنادولو

  • یورونیوز

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।