মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর ইসরায়েলের সামরিকভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকারকে সমর্থন করেছেন, যদিও সেই সময়েও নামমাত্র একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর ছিল। জাপান থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলি সৈন্যদের হত্যা করার খবর প্রকাশের পর ইহুদি রাষ্ট্রটির পাল্টা আক্রমণ শুরু করা ন্যায্য ছিল। তিনি জঙ্গি গোষ্ঠীটিকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি পরিস্থিতিতে একটি গৌণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে তারা যদি প্রতিষ্ঠিত চুক্তিগুলি মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের অপারেশনাল ক্ষেত্র থেকে অপসারণ করা সহজ হবে।

এই ঘোষণাটি আসে ১৩ অক্টোবর মধ্যস্থতা করা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PAX) জানিয়েছে যে ইসরায়েলি বাহিনী একই দিনে গাজা উপত্যকা জুড়ে 'সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির' সাথে যুক্ত অবস্থানগুলিতে ৩০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। তারা এই পদক্ষেপটিকে হামাসের চুক্তি অমান্য করার সরাসরি পরিণতি হিসেবে তুলে ধরে। বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের বিধ্বংসী অনুপ্রবেশ এবং রকেট হামলার মাধ্যমে, যার ফলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জন জিম্মি হন।
১৩ অক্টোবর শার্ম এল শেইখে অনুষ্ঠিত 'শান্তি শীর্ষ সম্মেলন'-এ যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে হামাসকে নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ করতে এবং নিরস্ত্রীকরণ করতে বলা হয়েছিল, যদিও তখনও কিছু জিম্মি বন্দি ছিল বলে খবর পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পরামর্শক্রমে ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপগুলি অনুমোদিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (SMH) ২৮ অক্টোবর দক্ষিণ গাজা সেক্টর এবং গাজা সিটিতে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গাজায় হামাস নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রতিনিধি মাহমুদ বাসাল-এর মতে, এই সংঘর্ষে ১০১ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৫ জন নাবালক ছিল। ১৯ অক্টোবর এবং ২৫ অক্টোবরের পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা পরিস্থিতিটিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী মানবিক মূল্য এখনও অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসরায়েলি সামরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থল অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকা সেক্টরে ৬৮,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭০,০০০-এরও বেশি আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করে চলেছে, যা পারস্পরিক পদক্ষেপের কারণে মারাত্মকভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে। সম্মতির ব্যাখ্যা নিয়ে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে; যেখানে PAX ইসরায়েলি হামলাকে হামাসের লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছে, সেখানে ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল ভিত্তি ছিল সৈন্যদের হত্যার মাধ্যমে হামাসের প্রাথমিক চুক্তি ভঙ্গ।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে যে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতিগুলি ভেঙে যাওয়ার কারণ প্রায়শই অন্য পক্ষের নিরস্ত্রীকরণ বা শত্রুতা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতির উপর পারস্পরিক আস্থার অভাব। ১৩ অক্টোবরের চুক্তির পরেও একই ধরনের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। উপরন্তু, ২৭ অক্টোবর ইউএন ওসিএইচএ (UN OCHA) জানিয়েছে যে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও মারাত্মকভাবে অপর্যাপ্ত, যা যেকোনো নতুন সংঘাত বৃদ্ধির গুরুতর দ্বিতীয় প্রভাবকে তুলে ধরে। মূল প্রশ্নটি এখনও রয়ে গেছে যে শার্ম এল শেইখে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক কাঠামোটি উভয় প্রধান যুদ্ধরত পক্ষের দ্বারা উদ্ধৃত তাৎক্ষণিক সামরিক ন্যায্যতাগুলির চাপ সহ্য করতে পারবে কিনা।


