ত্রিদেন্তিনো ডায়োসেসান মিউজিয়ামে (Museo Diocesano Tridentino) ১৫শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ১৬শ শতাব্দীর প্রথম দিকের কুমারী মেরি ও শিশু যীশুর একটি কাঠের ভাস্কর্যের সফল পুনরুদ্ধার কাজ জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই শিল্পকর্মটি ভেরোনিজ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং এর শৈলী আন্তোনিও জিওলফিনোর কর্মশালার কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীর তারিখ ছিল ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, যা স্থানীয় পবিত্র শিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণের চলমান প্রচেষ্টার উপর আলোকপাত করে।
পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে 'ইন ভিউ' (in view) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছিল, যাতে জনসাধারণ পুনরুদ্ধারের সূক্ষ্ম পর্যায়গুলি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই ভাস্কর্যটির ইতিহাস বেশ নাটকীয়; এটি ১৯৭৫ সালে চুরি হয়ে যায় এবং পরে আদige নদীর কাছে উদ্ধার করা হয়, ততদিনে এর কাঠামোগত ক্ষতি এবং মূল পলিক্রোমি (বহু রঙের প্রলেপ) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব এবং চুরির পরবর্তী অনুপযুক্ত সংরক্ষণ প্রচেষ্টার কারণে এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছিল। পুনরুদ্ধার কাজটি 'স্তেফানো জেন্টিলি - কনজারভাজিওন এ রেস্টোরো ডি বেনী কালচুরালি' (Stefano Gentili - Conservazione e restauro di beni culturali) নামক গবেষণাগার দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
এই ধরনের ধর্মীয় ভাস্কর্যগুলি একসময় স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভক্তি ও ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যা প্রার্থনা ও শোভাযাত্রার জন্য ব্যবহৃত হতো। পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছিল, যার মধ্যে রয়েছে ভাস্কর্যটির মূল পৃষ্ঠপোষক মোইয়োলা পরিবার (Moiola family), আর্থিক সহায়তাকারী লিয়ন্স ক্লাব ত্রেন্তো হোস্ট (Lions Club Trento Host), এবং মিউজিয়ামের পরিচালক ডমিজিও কাত্তোই (Domizio Cattoi) ও সভাপতি মিকেলে আন্দ্রেয়াস (Michele Andreaus)। মোইয়োলা পরিবার এই শিল্পকর্মটি বেসাগনো (Besagno) গির্জা থেকে সংগ্রহ করে একই শহরের তাদের ভক্তিপূর্ণ বেদীতে স্থাপন করেছিল।
ত্রিদেন্তিনো ডায়োসেসান মিউজিয়াম, যা ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ট্রেন্টোর ধর্মীয় শিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মিউজিয়ামের নেতৃত্ব, কাত্তোই এবং আন্দ্রেয়াস, এই হস্তক্ষেপকে সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের স্মৃতি সংরক্ষণের একটি মৌলিক কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ধরনের বহু-অংশীদারিত্বের মডেলটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি সফল সহযোগিতামূলক কাঠামো নির্দেশ করে। আন্তোনিও জিওলফিনো রেনেসাঁ যুগের ভেরোনিজ কাঠের ভাস্কর্যশিল্পের একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করে, বিশেষত যখন শিল্পকর্মগুলি চুরি, ক্ষয়ক্ষতি এবং অনুপযুক্ত হস্তক্ষেপের শিকার হয়। 'ইন ভিউ' পদ্ধতিতে কাজ করার সিদ্ধান্তটি সাংস্কৃতিক সংরক্ষণে স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার একটি উল্লেখযোগ্য পদ্ধতিগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পুনরুদ্ধারটি স্থানীয় শিল্পকলার গভীর জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে, যা মিউজিয়ামের সামগ্রিক সংগ্রহকে আরও মূল্যবান করে তুলেছে।


