মার্কিন-চীন বাণিজ্য চুক্তির প্রত্যাশায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার, অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ঊর্ধ্বমুখী সূচক

লেখক: max four

২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর, সোমবার বিশ্ব পুঁজিবাজারে এক উল্লেখযোগ্য উত্থান পরিলক্ষিত হয়েছে। চীনের সাথে একটি আসন্ন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়। মূলত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাই মার্কিন ইক্যুইটি এক্সচেঞ্জগুলোতে উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে। তবে এই উৎসাহ কিছুটা ম্লান হয়েছে টানা ২৭ দিন ধরে চলা ফেডারেল সরকারের অচলাবস্থা এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর সাথে বিদ্যমান বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের কারণে।

দিনের মাঝামাঝি সময়ে প্রধান সূচকগুলোতে এই সতর্ক আশাবাদ প্রতিফলিত হয়। ইস্টার্ন টাইম সকাল ৯:৩০ মিনিট নাগাদ ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৩০২ পয়েন্ট বা ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৯ শতাংশ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নাসডাক সূচক ১.৪ শতাংশ বেড়ে দিনের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। খবরের প্রভাবে প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারগুলোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; যেখানে এনভিডিয়া ২.২ শতাংশ, ব্রডকম ২.২ শতাংশ এবং এএমডি ০.৮ শতাংশ লাভ করেছে। এছাড়া টেসলার শেয়ার ২.৪ শতাংশ এবং অ্যাপলের শেয়ার ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, চীন থেকে খনিজ সরবরাহের স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় দেশীয় খনিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’-এর শেয়ার ১৮.৭ শতাংশ, ‘ইউএসএ রেয়ার আর্থ’ ১৩.৯ শতাংশ এবং ‘এমপি মেটেরিয়ালস’ ৬.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একইভাবে ট্রিলজি মেটালস ১৪.৫ শতাংশ, এনার্জি ফুয়েলস ১০.৯ শতাংশ এবং নিওকর্প ডেভেলপমেন্টস ১৪.২ শতাংশ দর হারিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন যে চীন বিরল খনিজ উপাদানের ওপর কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে, যার ফলে মার্কিন প্রশাসনের পূর্বঘোষিত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না বলে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই ভূ-রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে, বিশেষ করে ২৭ দিনের দীর্ঘ সরকারি অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তদুপরি, গত সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের পর কানাডিয়ান আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে নতুন করে বাণিজ্যিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে এসবের বাইরেও বাজার পর্যবেক্ষকরা ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করছেন যে ফেডারেল রিজার্ভ আগামী বুধবার তাদের বৈঠকে সুদের হার হ্রাস করবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশার চেয়ে কম ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

চীন-মার্কিন বাণিজ্য সমস্যার সমাধানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে এর ফলে বেইজিং পুনরায় সয়াবিনের মতো মার্কিন কৃষি পণ্যগুলো বড় আকারে ক্রয় শুরু করবে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে নির্ধারিত বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার বিষয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যাচ্ছি।" সামগ্রিক পরিস্থিতি এটিই প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপকরণের পরিবর্তনগুলো কত দ্রুত বিনিয়োগকারীদের ধারণা এবং বাজার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

8 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।