এপস্টাইন-বার ভাইরাস ও মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস: যুগান্তকারী গবেষণার জন্য ব্রেকথ্রু পুরস্কারে ভূষিত দুই বিজ্ঞানী

সম্পাদনা করেছেন: firstname lastname

সাম্প্রতিক যুগান্তকারী গবেষণা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS) এর কারণ অনুসন্ধানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই গবেষণার জন্য ডঃ আলবার্তো অ্যাশেরিও এবং ডঃ স্টিফেন হাউসার কে ২০২৫ সালের ব্রেকথ্রু পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। তাদের কাজ মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো একটি জটিল রোগের কারণ এবং চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

গবেষণার মূল বিষয় হলো এপস্টাইন-বার ভাইরাস (EBV) এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মধ্যেকার সম্পর্ক। প্রায় দুই দশক ধরে ১০ মিলিয়নেরও বেশি মার্কিন সেনার স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, যারা EBV দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, EBV সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৩২ গুণ বেশি। এই ভাইরাসটি মনonucleosis বা 'মনো' রোগের কারণ হিসেবে পরিচিত এবং এটি প্রায় ৯৫% প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জীবনের কোনো না কোনো সময় সংক্রমিত হয়। ডঃ অ্যাশেরিও, যিনি হার্ভার্ড টি. এইচ. চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের একজন অধ্যাপক, তিনি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে EBV সংক্রমণ মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের একটি প্রধান কারণ। তার এই যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এবং ডঃ হাউসার, যিনি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর একজন অধ্যাপক, তারা যৌথভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেন। ডঃ হাউসার মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে B কোষের ভূমিকা এবং B কোষ-ভিত্তিক চিকিৎসার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

এই গবেষণাটি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের কারণ সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এটি কেবল রোগের কারণ উন্মোচনই করেনি, বরং EBV-কে লক্ষ্য করে ভ্যাকসিন বা অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি তৈরির পথও খুলে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় নতুন আশা জাগাবে। এই আবিষ্কারটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এর সঠিক কারণ এতদিন অজানা ছিল, কিন্তু EBV-এর সাথে এর সংযোগ স্থাপন করার পর, বিজ্ঞানীরা এখন এই রোগের প্রতিরোধ ও নিরাময়ের নতুন উপায় খুঁজছেন। এই গবেষণাটি কেবল বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে MS আক্রান্ত রোগী এবং তাদের পরিবারের জন্য এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

119 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Knowridge Science Report

  • Harvard T.H. Chan School of Public Health

  • National Institutes of Health

  • Harvard T.H. Chan School of Public Health

  • ScienceDaily

  • AP News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।