টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে এক বিশাল অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিংহ্যামটন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মানবদেহের প্রকৌশলকৃত টিস্যুর অভ্যন্তরে কৃত্রিম ভাস্কুলার (রক্তনালী সংক্রান্ত) সিস্টেম তৈরি করার জন্য একটি অত্যন্ত উদ্ভাবনী কৌশল তৈরি করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ২০২৩ সালে থমাস জে. ওয়াটসন কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছিল, যা এই ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অধ্যাপক ইং ওয়াং (Ying Wang) এবং অধ্যাপক ইংগে ঝু (Yingge Zhou)-এর নেতৃত্বে গঠিত গবেষক দলটি কৃত্রিমভাবে তৈরি টিস্যুগুলির আকার এবং কার্যকারিতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলি অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন। এতদিন পর্যন্ত, পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালনের অভাব ছিল টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথে একটি প্রধান বাধা। এর ফলস্বরূপ, টিস্যুর অভ্যন্তরে নেক্রোটিক এলাকা তৈরি হতো, যেখানে অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে কোষগুলি মারা যেত। এই গুরুতর ঘাটতি আরও জটিল টিস্যু তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছিল।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষকরা ন্যানো-ফ্যাব্রিকেশন কৌশল ব্যবহার করেন। তারা হাইড্রোজেল স্কাফোল্ডের (hydrogel scaffolds) মধ্যে মাইক্রো-টিউব তৈরি করেন। এই মাইক্রো-টিউবগুলির ব্যাস ছিল ১ থেকে ১০ মাইক্রনের মধ্যে। ইলেকট্রোস্পিনিং (electrospinning) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে ফাঁপা চ্যানেল তৈরি করার জন্য টিউবের মূল অংশটি দ্রবীভূত করা হয়। টিউবগুলিকে আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আল্ট্রাসনিক ভাইব্রেশন (ultrasonic vibration) ব্যবহার করা হয়েছিল।
ফ্লুরোসেন্ট মাইক্রো-বিড (fluorescent micro-beads) ব্যবহার করে পরিচালিত পরীক্ষাগুলি নিশ্চিত করেছে যে এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন এবং অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এটি কোষের জীবনধারণে সহায়তা করে। ওয়াং এবং ঝু জোর দিয়ে বলেন যে টিউবগুলির আকার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকার কারণে তারা বিভিন্ন ধরণের ভাস্কুলার কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হবেন, যা প্রকৌশলকৃত টিস্যুগুলির পরিবর্তন এবং অভিযোজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই অগ্রগতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন কৃত্রিম টিস্যুতে উন্নত ভাস্কুলার সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এই নতুন পদ্ধতিটি টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট পথ দেখায়, যা কৃত্রিম টিস্যুগুলিকে ওষুধ পরীক্ষা এবং রিজেনারেটিভ মেডিসিনের (পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসা) জন্য বাস্তব অঙ্গের প্রতিলিপি তৈরির কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এটি টিস্যু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
গবেষকরা মনে করেন যে এই প্রযুক্তিটিকে যদি নিখুঁতভাবে উন্নত করা যায়, তবে এটি কেবল একটি অঙ্গ নয়, বরং মানব কোষের উপর ভিত্তি করে একাধিক অঙ্গকে একটি জীবন্ত সিস্টেম হিসাবে একত্রিত করার সুযোগ দেবে। টিউবের আকার নিয়ন্ত্রণের মতো প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটির উপর মনোযোগ কীভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে এমন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, এই কাজটি তারই প্রমাণ।

