বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রান-অফ ভোটের পথে দেশ

লেখক: max four

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রান-অফ ভোটের পথে দেশ

২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে মধ্য-ডানপন্থী সিনেটর রদ্রিগো পাজ পেরেইরা (Rodrigo Paz Pereira) ৩২.০৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। ২০০২ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে, যা বলিভিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মুভমেন্ট টুওয়ার্ডস সোশ্যালিজম (MAS) দলের দীর্ঘ দুই দশকের শাসনে ক্লান্ত ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, এই নির্বাচনী ফলাফল মূলত তারই প্রতিফলন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট হোর্হে "তুতো" কিরোগা রামিরেজ (Jorge "Tuto" Quiroga Ramírez) ২৬.৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্যামুয়েল ডোরিয়া মেদিনা (Samuel Doria Medina) ১৯.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এই নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যেখানে মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮৬.৯৫ শতাংশ। এটি প্রমাণ করে যে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নাগরিকরা কতটা সচেতন ও সক্রিয়।

বর্তমানে বলিভিয়া এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এছাড়া বাজারে মার্কিন ডলারের তীব্র অভাব, জ্বালানি তেলের সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের ঘাটতি জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ই মূলত বর্তমান সরকারের প্রতি জনমনে অসন্তোষ তৈরি করেছে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছে।

আগামী ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফার বা রান-অফ ভোটে রদ্রিগো পাজ পেরেইরা এবং হোর্হে কিরোগা রামিরেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও উভয় প্রার্থীই ডানপন্থী ঘরানার, তবে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। পাজ পেরেইরা একটি ধীর ও স্থিতিশীল পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলছেন, অন্যদিকে কিরোগা রামিরেজ আরও ব্যাপক ও দ্রুত অর্থনৈতিক উদারীকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই দুই নেতার লড়াই এখন বলিভিয়ার রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল থেকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। অর্গানাইজেশন অফ আমেরিকান স্টেটস (OAS) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) পর্যবেক্ষণ মিশনগুলো বলিভিয়ার এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করেছে। এখন পুরো দেশ অধীর আগ্রহে দ্বিতীয় দফার ভোটের অপেক্ষা করছে, যা দেশটির আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে।

36 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।