মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাক্স সিলিকা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কাঠামোতে ভারতের কৌশলগত অন্তর্ভুক্তি

সম্পাদনা করেছেন: Dmitry Drozd

যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে তাদের নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোট 'প্যাক্স সিলিকা' (Pax Silica)-র একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করা। ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি হাডসন ইনস্টিটিউটে এক বিশেষ বক্তৃতায় অর্থনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট জ্যাকব হেলবার্গ এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন।

প্যাক্স সিলিকা জোটটি মূলত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চালু করা হয়েছিল। এর প্রধান লক্ষ্য হলো সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, লজিস্টিকস এবং এআই অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে বিশ্বজুড়ে একটি নিরাপদ ও বিশ্বস্ত প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। হেলবার্গ জানান যে, আগামী মাসে অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশগুলো এই জোটের প্রাথমিক সদস্য ছিল, তবে হেলবার্গ মনে করেন যে খনিজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে এআই উন্নয়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য।

তিনি বর্তমান বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে তিনটি প্রধান ফ্রন্টে বিভক্ত করেছেন: উদ্ভাবন, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা। হেলবার্গের মতে, হার্ডওয়্যার—বিশেষ করে সিলিকন—বর্তমানে কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরবরাহ শৃঙ্খল এখন কেবল ব্যবসার বিষয় নয়, বরং এটি ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। প্যাক্স সিলিকা অংশীদারদের সাথে একটি 'বিশ্বাস করুন কিন্তু যাচাই করুন' (trust but verify) নীতি অনুসরণ করে, যাতে প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং লজিস্টিকসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। তিনি এই উদ্যোগকে সরাসরি চীনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না বলে একটি 'আমেরিকা কৌশল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাজ্য এই জোটের ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও এতে যোগ দেয়। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের মধ্যে জবরদস্তিমূলক নির্ভরশীলতা হ্রাস করা এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে একটি নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা।

এই নতুন পদক্ষেপটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত সম্পর্কেরই একটি অংশ। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে 'ট্রাস্ট' (TRUST - Transforming the Relationship Utilizing Strategic Technology) উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী এই উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন। এটি মূলত এআই এবং সাইবার নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়। এর মধ্যে একটি 'এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার রোডম্যাপ' অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ডেটা সেন্টার স্থাপনের গতি ত্বরান্বিত করা।

জ্যাকব হেলবার্গ তার স্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে শীঘ্রই ভারতে 'এআই ইমপ্যাক্ট সামিট'-এ যোগ দিতে যাচ্ছেন, যেখানে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চূড়ান্ত করা হবে। তিনি ভারতের মেধা ও দক্ষ জনশক্তিকে চীনের সাথে তুলনীয় বলে প্রশংসা করেছেন। এই জোটটি খনিজ সম্পদ প্রক্রিয়াকরণ, জ্বালানি এবং উৎপাদন খাতের শক্তিকে একত্রিত করে কাজ করবে, যেখানে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে 'সবচেয়ে বড় হাতিয়ার' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হেলবার্গ মনে করেন, সরকারের উচিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা এবং মেধা সম্পদ রক্ষা করা। একটি নতুন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

31 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Social News XYZ

  • Ommcom News

  • Awaz The Voice

  • Awaz The Voice

  • Jewish Insider

  • The Sunday Guardian

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।