২০২৫ সালে, CERN-এর BASE (Baryon Antibaryon Symmetry Experiment) গবেষণা দল কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের জগতে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। তারা একটি একক অ্যান্টিপ্রোটনের স্পিন কোহেরেন্স ৫০ সেকেন্ড পর্যন্ত বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা এই ক্ষেত্রে একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছে। এই অভূতপূর্ব অর্জনটি কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্বগুলি পরীক্ষা করার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
বারবারা লাটাজ, এই গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক, এবং তার দল অত্যাধুনিক কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সাফল্য লাভ করেছেন। তারা একটি একক অ্যান্টিপ্রোটনকে বিচ্ছিন্ন করে তার স্পিন কোহেরেন্স দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হন। অ্যান্টিপ্রোটন হলো প্রোটনের প্রতিরূপ, যার ভর একই কিন্তু আধান বিপরীত। এদের স্পিন কোহেরেন্স বজায় রাখা বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই গবেষণা শুধু অ্যান্টিম্যাটার নিয়ে আমাদের জ্ঞানকেই প্রসারিত করবে না, বরং মহাবিশ্বের মৌলিক প্রতিসাম্য, যেমন CPT (চার্জ, প্যারিটি, টাইম রিভার্সাল) প্রতিসাম্য পরীক্ষা করার নতুন পথও খুলে দেবে। CPT প্রতিসাম্য অনুযায়ী, পদার্থ এবং প্রতিপদার্থের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি একই হওয়া উচিত। কিন্তু মহাবিশ্বে পদার্থের আধিক্য এবং প্রতিপদার্থের অভাব একটি অমীমাংসিত রহস্য, যা এই গবেষণা সমাধানের ইঙ্গিত দিতে পারে।
BASE প্রকল্পের লক্ষ্য হলো প্রোটন এবং অ্যান্টিপ্রোটনের চৌম্বকীয় মুহূর্তের তুলনা করে পদার্থ ও প্রতিপদার্থের মধ্যেকার পার্থক্য খুঁজে বের করা। এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, বিজ্ঞানীরা এখন অ্যান্টিপ্রোটনের চৌম্বকীয় মুহূর্তকে অভূতপূর্ব নির্ভুলতার সাথে পরিমাপ করতে পারবেন। এটি কেবল কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নতিতেই সাহায্য করবে না, বরং মহাবিশ্বের মৌলিক নিয়মগুলি আরও গভীরভাবে বুঝতেও সহায়তা করবে।
এই আবিষ্কারের ফলে, বিজ্ঞানীরা এখন অ্যান্টিপ্রোটনের মতো প্রতিপদার্থের কণাগুলিকে কোয়ান্টাম স্তরে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। যদিও এই প্রযুক্তি সরাসরি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরিতে ব্যবহৃত হবে না, তবে এটি ভবিষ্যতে প্রতিপদার্থ-ভিত্তিক কোয়ান্টাম প্রযুক্তির বিকাশের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এই গবেষণাটি পদার্থবিজ্ঞানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।