রমজান মাসে মার্কিন ডলারের স্থিতিশীলতা এবং মিশরীয় রিজার্ভ বৃদ্ধি

সম্পাদনা করেছেন: sfsdf dsf

২০২৬ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি, যা পবিত্র রমজানের প্রথম দিন, মিশরীয় পাউন্ডের বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হারে আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। সাধারণত এই পবিত্র মাসে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সময়সূচী পরিবর্তনের কারণে মুদ্রার হারে সম্ভাব্য ওঠানামা দেখা গেলেও, প্রধান মিশরীয় ব্যাংকগুলি গতকালের সমাপ্তি মূল্যের তুলনায় ডলারের হারে সামান্য পরিবর্তন রেকর্ড করেছে, যা বাজারকে আশ্বস্ত করেছে। এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনার প্রচেষ্টা কার্যকর হচ্ছে।

মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (CBE) কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৫২.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই অঙ্কটি ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের ৫১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় প্রায় ১.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি মাসিক বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই রিজার্ভ বৃদ্ধি পাউন্ডকে বৈদেশিক মুদ্রার চাপের বিরুদ্ধে সমর্থন করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষত রমজান মাসে আমদানি করা পণ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য।

এই মোট রিজার্ভের মধ্যে স্বর্ণের মজুত প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ২০.৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যদিও একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ প্রায় ১.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হ্রাস পেয়ে ৩১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্যিক আন্তর্জাতিক ব্যাংক (CIB) এর মতো প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ডলার কেনার হার ছিল ৪৬.৯৬ মিশরীয় পাউন্ড এবং বিক্রির হার ছিল ৪৭.০৬ মিশরীয় পাউন্ড। ব্যাংক মিসর এবং ব্যাংক দু কায়ের মতো অন্যান্য ব্যাংকগুলিও অনুরূপ সংকীর্ণ লেনদেন সীমা বজায় রেখেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই রিজার্ভ বৃদ্ধির পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) সমর্থিত কাঠামোগত সংস্কারের ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পাউন্ড একটি সংকীর্ণ পরিসরের মধ্যে লেনদেন করছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এক ধরণের প্রশান্তি নির্দেশ করে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি এই সময়ে আমদানি করা পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে, যা রমজানের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রমজান মাস মিশরের অর্থনীতিতে একটি ঋতুভিত্তিক অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করে, যেখানে পারিবারিক জমায়েত এবং উৎসবের প্রস্তুতির কারণে খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে ভোগের পরিমাণ স্বাভাবিক মাসের তুলনায় ১৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যেখানে মাসিক ব্যয় প্রায় ৫৫ বিলিয়ন মিশরীয় পাউন্ড থেকে বেড়ে ১০০ বিলিয়ন মিশরীয় পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা মিশরীয় পরিবারগুলির উপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এবং সামাজিক রীতিনীতি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে, যা অতীতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাহত হয়েছিল।

18 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • نبأ العرب

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • جريدة المال

  • اليوم السابع

  • روز اليوسف

  • بوابة الأهرام

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।