আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইজিপ্টের অভাবনীয় সাফল্য: নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার পথে মিশর
সম্পাদনা করেছেন: sfsdf dsf
মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইজিপ্ট বা সিবিই) তাদের সুদূরপ্রসারী উন্নয়নমূলক ব্লুপ্রিন্টের অধীনে অর্জিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মাধ্যমে দেশটির জাতীয় আর্থিক ও মুদ্রানীতিগত অন্তর্ভুক্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই চলমান প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করতে বর্তমানে দ্বিতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়নের কাজ চলছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদী এই নতুন কৌশলটি মূলত এর পূর্ববর্তী কার্যক্রমের অর্জিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই সাজানো হচ্ছে, যা মিশরের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৮ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রাথমিক কৌশলটি ইতিমধ্যে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে, যার ফলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ মিশরের সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৭৭.৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি নির্দেশ করে যে, মিশরের ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের মধ্যে বর্তমানে ৫.৪৭ কোটি সক্রিয় আর্থিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। মোট ৭.০৫ কোটি যোগ্য জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই হিসাব করা হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এই অন্তর্ভুক্তির হার ২১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মিশরের ব্যাংকিং খাতের আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জনতাত্ত্বিক দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ২০১৬ সালের মাত্র ১৯.১ শতাংশ থেকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের শেষে ৭১.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত কয়েক বছরে ৩১৬ শতাংশের এক বিশাল প্রবৃদ্ধিকে প্রতিফলিত করে। একইভাবে, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও আর্থিক সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালে এই হার ৩৬.৩ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৫৬.৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। মূলত সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং সুবিধাবঞ্চিত অংশগুলোকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ইকোসিস্টেমে একীভূত করার জন্য সিবিই-এর বিশেষায়িত প্রোগ্রামগুলো এই সাফল্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
এই সংখ্যাতাত্ত্বিক অর্জনের পাশাপাশি, সিবিই-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (বিডিএস) হাবগুলো নাইলপ্রেনিউরস উদ্যোগের আওতায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্যাপক অ-আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। মিশরের ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন গভর্নরেটে ছড়িয়ে থাকা ১৩২টি হাবের মাধ্যমে প্রায় ৫,০২,০০০ তরুণ উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে (এমএসএমই) ১.১৬ মিলিয়নেরও বেশি অ-আর্থিক পরিষেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক সুবিধাভোগীদের মধ্যে ২,১০,০০০ জনই ছিলেন নারী উদ্যোক্তা। এই ধরনের নিবিড় পরামর্শমূলক প্রচেষ্টার সরাসরি প্রভাবে ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রায় ১৪,০০০-এরও বেশি প্রকল্পে ১৯ বিলিয়ন মিশরীয় পাউন্ড (ইজিপি) অর্থায়ন করা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় অবদান রাখছে।
ভবিষ্যতের রূপরেখা অঙ্কন করতে গিয়ে সিবিই ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে উদীয়মান ও নতুন কোম্পানিগুলোর জন্য ১০ বিলিয়ন ইজিপি মূল্যের একটি বিশেষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্যাকেজ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে নিবিড় সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। আসন্ন ২০২৬-২০৩০ কৌশলের মূল অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যাপক প্রসার ঘটানো, একটি পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ইকোনমি গড়ে তোলার লক্ষ্যে টেকসই অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় ভোক্তা সুরক্ষা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা। এই পরবর্তী ধাপের সফল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
47 দৃশ্য
উৎসসমূহ
جريدة الشروق
بنوك
أموال الغد
ZAWYA
EnterpriseAM Egypt
Central Bank of Egypt
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



